আজ কলকাতা হাই কোর্টে CBI-র রিপোর্ট পেশ হয়েছে। CBI বলেছে যে তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। তা পারবে কি করে। মনের মত রিপোর্ট না দিলে তো বাম বিরোধি কোর্ট মানবে না। তাই মিথ্যে কথা বলার চেয়ে কথা চেপে যাওইয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যাই হোক হাই কোর্টের কির্তি কলাপের মধ্যে গিয়ে লাভ নাই। যেটা মনে রাখার প্রয়জন তা হল বাম্ফ্রন্ট সরকার হঠাৎ এই রকম একটা প্রিস্থিতিতে পড়ল কেন? এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। দক্ষিন পন্থি শক্তিরা বরাবরই পশ্চিম বঙ্গের বাম ফ্রন্ট সরকারকে প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ ভাবে আক্রমন করার চেষ্ঠা করেছে। আমরা সকলেই জানি কি ভাবে গত বিধান সভা নির্বাচনের সময় বারে বারে পক্ষপাতিত্যের নমুনা পাশ করেছিল এবং সময় অসময় আজব সব বয়ান যারি করছিল। কিন্তু তাও বাম ফ্রন্টের বিন্দুটি ক্ষতি করতে পারেনি। আমরা এও জানি যে বিভিন্ন ভাবে বিদেশী শক্তিরা অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে বাম ফ্রন্টের বিরুদ্ধে জমি মজবুত করতে চেশঠা চালিয়ে গেছে। পাঁশকুড়া, কেশপুরের ঘটনা আমরা এখনও ভুলিনি। বেশ কয়েক বছর আগে আনন্দমার্গীরা কিভাবে অস্ত্রের চোরাচালান চালাচ্ছিল তা ধরা পড়ে যখন একটা বেআইনি বিমান ভেঙ্গে পড়ে ও তার থেকে পাচার করা অস্ত্র ধরা পড়ে।
কেবল পশ্চিম বঙ্গ নয়, বাম শাসিত অন্য রাজ্যেও এই রকম হস্তক্ষেপ করে থাকে। ভারত সরকারের কাছে প্রমান আছে যে মার্কিন গুপ্ত সংস্থা সি আই এ, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থি, বাম বিরোধহি শক্তিগুলোকে প্রশিখহ্ন দিয়ে চলেছে। এর আগে ১৯৫৯ সালে কেরলে নাম্বুদিরিপাদ সরকারের অপসরনে এবং ১৯৭১ সালে পশ্চিম বঙ্গে কমিউনিস্টদের উপর আক্রমনে মার্কিন শক্তি কি ভুমিকা গ্রহন করেছিল তা Patrick Moynihan's book A Dangerous Place (1978), প্যাট্রিক ময়নিহান তাঁর বই এ ডেঞ্জারাস প্লেস-এ (১৯৭৮) বর্নণা করেছেন।
এবার নন্দীগ্রামে যে ভাবে পূর্ব পরিকল্পনা করে, মানুষের মনের ভয়কে ব্যবহার করে, একটা বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি জন্ম দেওয়ার চেষ্ঠা করছে তাতে যদি কিছুদিন পরে আবার এক বিদেশী হস্তক্ষেপের প্রমান মেলে তা হলে অবাক হতে হবে না।
আর অবাক হতে হবে না বলেই, বাম ফ্রন্ট ও তার সমর্থকদের আরও বেশি করে সাবধান হতে হবে এবং আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে।
ক্রমশ...